ব্রণ কি? কেন হয়? কিভাবে ব্রণ থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন? || ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণের চিকিৎসা

প্রতিটি মানুষকেই একটা সময় এই ব্রণ নামক অসহ্যকর সমস্যাকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয়। কারো ক্ষেত্রে এটা আগে হয়ে দেরিতে শেষ হয় আবার কারো ক্ষেত্রে পরে হয়ে তাড়াতাড়ি শেষ হয় আবার কারো ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেলেও শেষ হতে চাই না। খুবই অসহ্যকর সমস্যা এটা।

আজ আমরা ব্রণের এই অসহ্যকর সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। ব্রণ কি, কেন হয়, কত প্রকার, এর চিকিৎসা কি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আমরা আলোচনা করবো। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

আজ আমরা ব্রণের এই অসহ্যকর সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো। ব্রণ কি, কেন হয়, কত প্রকার, এর চিকিৎসা কি ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে আমরা আলোচনা করবো। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

ব্রণ কি?

সাধারণত আমাদের মুখে যে ফোঁড়া দেখা দেয় সেগুলোকেই আমরা ব্রণ বলি তবে এর পেছনে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে যা আমরা অনেকেই জানি না। ব্রনের একটি ইংরেজি নাম রয়েছে তা হচ্ছে (অ্যাকনি ভালগারিস)। এই অ্যাকনি বা ব্রণ হচ্ছে প্রত্যেক মানুষের ত্বকের জন্মগত রোগ। আমাদের ত্বকে সিবাসিয়াস নামক তৈল গ্রন্থি থাকে। এই তৈল গ্রন্থির কারণে আমাদের ত্বক মৃসৃণ সফট থাকে। এই সিবাসিয়াস থেকে (সিবাম) নামক তৈল গ্রন্থি নিসৃত হয়। যদি কোনো কারণে সিবাসিয়াস থেকে অতিরিক্ত সিবাম নির্গত হয় তাহলে তা ত্বকের যে ছোট ছোট ছিদ্র থাকে তাতে তা জমা হয়। একই সাথে ঔ গর্তে মৃতকোষ, ময়লা, ব্যক্টেরিয়ার জমা হয়ে ত্বকের গর্তে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এর ফলে ছোট ছোট দানা বা ফোড়ার সৃষ্টি হয় একে আমরা ব্রণ বলি।

ব্রণ কত প্রকার?

উপরে আমরা জানলাম ব্রণ কি এখন আমরা জানবো ব্রণ কত প্রকার। ব্রণ সাধারণত দুই প্রকার
  • ব্ল্যাকহেডস ।
  • হোয়াইটহেডস।

এখন আমরা জানবো এই ব্লাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস কি?

উপরে আমরা জানলাম ব্রণ কি এখন আমরা জানবো ব্রণ কত প্রকার। ব্রণ সাধারণত দুই প্রকার ব্ল্যাকহেডস । হোয়াইটহেডস। এখন আমরা জানবো এই ব্লাকহেডস এবং হোয়াইটহেডস কি?

ব্ল্যাকহেডসঃ

ব্লাকহেডস গুলোকে আমরা সাধারণত আমাদের নাকের উপরে, পাশে এবং চিবুকের কাছে দেখতে পাই। ব্ল্যাকহেডস নারী পুরুষ সকলেরই হয়। ব্ল্যাকহেডস দেখতে ছোট ছোট কালো রং এর হয়ে থাকে। এগুলো অনেক ছোট হয়। এগুলো হওয়ার কারণ হচ্ছে লোমকূপে ময়লা জমা। আবার অনেক সময় তৈলাক্ত ত্বকের তৈল এর জন্য লোমকূপের মুখ আটকে যার যার ফলে ময়লা বের হতে না পারাই ব্ল্যাকহেডস তৈরি হয়।

হোয়াইটহেডসঃ

ক্লগড হেয়ার ফলিকসের জন্য হোয়াইটহেডস হয়ে থাকে। ধুলো-ময়লা, ব্যাকটেরিয়া, ত্বকের মরা কোষ এই ক্লগড হেয়ার ফলিকসে জমা হয়ে এক ধরনের সোলেন তৈরি হয়।এই সোলেনে যদি অতিরিক্ত তৈল জমা হয় এবং ব্যাকটেরিয়া যদি ঔ তৈল ভেঙ্গে ফেটি এসিডে পরিনত হয় তাহলে হোয়াইটহেডস হয়ে থাকে। এই হোয়াইটহেডস বয়ঃসন্ধিকালে সবথেকে বেশি হয়ে থাকে। তবে হোয়াইটহেডস সব বয়সের মানুষের হতে পারে প্রাপ্তবয়স্কদের ও হতে পারে। হোয়াইটহেডস সুধু মুখে নয় মুখ ছাড়া গলায়, পিঠে, বুকে হতে পারে।

ব্রণ কেন হয়? ব্রণ হওয়ার মুল কারন কি?

ব্রণ কেন হয় এটা বলতে গেলে বলা যায় ব্রণ এই রোগটা মানুষের জন্মগত রোগ। প্রতিটি মানুষের এমন একটা সময় পার কারতে হয় যখন ব্রণ হয়। তবে ব্রণ হওয়ার কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ গুলো জেনে নেওয়া যাকঃ

  • হরমোন জনিত সমস্যাঃ হরমোন জনিত সমস্যা এটা সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে হয়ে থাকে। এই সময় আমাদের শরীরের আন্ড্রোজেন হরমোনের মাএা বৃদ্ধি পেয়ে শরীরে সীবামের মাএা বেড়ে যায়। এর ফলে আমাদের মুখে, বুকে, পিঠে এই ব্রণ দেখা দেই।
  • টেনশনের ফলেও ব্রণ হয়ঃ যাদের মুখ তৈলাক্ত অর্থাৎ অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বক পরিশ্রম, টেনশন এর ফলে মুখে ব্রণ হতে পারে। তাই আমাদের উচিত টেনশন থেকে দূরে থাকে।
  • ত্বকের অযত্নঃ ত্বকের যত্ন না নেওয়ার ফলে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে দূষণ, ময়লা, মেকাপ, টক্সিন মুখ থেকে দূর না করলে মুখে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এজন্য আমাদের উচিত প্রতিদিন রাতে মুখ পরিষ্কার করে রাখা। মুখ পরিষ্কার করার জন্য ফেসওয়াশ কিনতে পাওয়া যায় সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন তবে মুখে সাবান ব্যবহার করা যাবে না।
  • কম ঘুমঃ মুখে ব্রণ হওয়ার আরেকটা অন্যতম কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানো। একজন মানুষকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ৭/৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন। কারণ হরমনের ব্যালান্স ঠিক রাখতে রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখার জন্য ৭/৮ ঘন্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
  • জীবাণু সংক্রমণঃ আমাদের ত্বকে যদি সংক্রমণ দ্বারা ব্রণ হয় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজে নিজে কোনো মেডিসিন ব্যবহার করা যাবে না।
  • হরমোনের পরিবর্তনঃ হরমন পরিবর্তনের ফলে ব্রন হতে পারে। হরমোন ক্ষরণের সমস্যা হলে ত্বক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে দেখতে হবে। হরমোন ক্ষরণে রক্তের পাশাপাশি ত্বকে প্রভাব ফেলে।
  • জিনগতঃ এই জিনগত ভাবে ব্রণ সমস্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বাবা মা এর এই সমস্যা কৈশোরে থাকলে তা আপনার কৈশোরে হওয়া স্বাভাবিক বিষয়।
  • মানসিক চাপঃ মানব জীবনে মুখে ব্রণ হওয়ার আরেকটা অন্যতম কারণ হচ্ছে মানসিক চাপ।
  • সঠিক মেকআপ প্রোডাক্ট ব্যবহারঃ বাজারে এখন অনেক ধরনের মেক আপ প্রোডাক্ট পাওয়া যায় তবে এসব৷ প্রোডাক্টের মধ্যে যেসকল ক্যামিকেল মিশ্রিত থাকে তা সবার ত্বকে সহ্য করতে পারে না। তাই ত্বকের PH মান জেনে বয়স অনুযায়ী সঠিক পণ্য ব্যবহার করতে হবে। তানা হলে মুখে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রণ কেন হয় এটা বলতে গেলে বলা যায় ব্রণ এই রোগটা মানুষের জন্মগত রোগ। প্রতিটি মানুষের এমন একটা সময় পার কারতে হয় যখন ব্রণ হয়। তবে ব্রণ হওয়ার কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কারণ গুলো জেনে নেওয়া যাক

ছেলে ও মেয়েদের মুখে ব্রণ কেন হয়

ছেলে ও মেয়ে দের মুখে ব্রণ হওয়ার সব থেকে বড় কারণ হচ্ছে বয়ঃসন্ধি কাল। এই সময় ছেলে মেয়েদের ব্রণ হবে। বয়ঃসন্ধির সাথে আরো যে কারণ গুলো জড়িত তা হচ্ছে , রাত জাগা, ত্বকের প্রতি অযত্ন হওয়া, হরমন ক্ষরণে তারতম্য, অতিরিক্ত টেনশন, বেশি বেশি জাঙ্কফুড খাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমানো ইত্যাদি কারণে ছেলে মেয়েদের ব্রণ হয়ে থাকে।

দ্রুত ব্রণ দুর করার ঘরোয়া উপায়

এতক্ষণ তো আমরা জানলাম কিভাবে ব্রণ হয় কেন হয়, কাদের হয় ইত্যাদি বিস্তারিত জানলাম। এখন জানবো কিভাবে ঘরে থেকেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্রণ দূর করা যায়।

  • টুথপেস্টঃ আপনারা চাইলে টুথপেষ্ট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এটা ভালো ফল দেয়। টুথপেষ্ট আপনার ব্রণকে শুকিয়ে ফেলে। রাতে ঘুমানোর আগে এটা ব্যবহার করবেন।
  • বরফঃ বরফ ব্রণের লালচে ভাব ও জীবাণু থেকে আপনার ত্বককে রক্ষা করবে। তাই আপনারা বরফ ব্যবহার করতে পারেন। তবে অতিরিক্ত বরফ ঘষবেন না এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
  • মধুঃ মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপ্টিক। ব্রণে থাকা বাড়তি তরল পদার্থ কমিয়ে সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে। আপনি একটি পরিষ্কার কাপড়ে মধু লাগিয়ে তা সারা রাত মুখে রেখে দিবেন, পরের দিন সকালে মুখ ধুয়ে ফেলবেন।
  • লেবুঃ লেবুতে রসে রয়েছে প্রায় ২.২ পিএইচ এর প্রায় ৫% থেকে ৬% সাইট্রিক অ্যাসিড যা ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। এটি অত্যন্ত কার্যকর একটা পদ্ধতি।
  • পানি পানঃ ব্রণ যাতে কম হয় তার জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এতে করে আপনার শরীরের বিষাক্ত পদার্থগুলো বেরিয়ে যাবে।
  • নিমপাতাঃ নিমপাতা হচ্ছে একটি জীবানুনাশক। নিম পাতা পিষে তার রস বের করে নিতে হবে। তারপর সেই রস ব্রণের উপর ভালো করে লাগাতে হবে। নিমপাতা ব্রণ নিরাময়ে অত্যন্ত দ্রুত ও কার্যকারী।

চিরতরে ব্রণ দুর করার উপায়

চিরতরে ব্রণ দূর করা যাবে না। কারণ, ব্রণ সৃষ্টি হওয়ার অনেক গুলো দিক বা ধরন রয়েছে সবগুলো দিক বা ধরন বন্ধ করা সম্ভব নয়। তাই এই ব্রণ চিরতরে দূর করা যাবে তবে একেবারে নির্মূল করাও যাবে না।ব্রণ যেকোনো বয়সে যে কারো হতে পারে। ব্রণকে মুখে আর না হতে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা যায়। উপরে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সেগুলো সঠিক ভাবে ফলো করলে ব্রণ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

ব্রণের চিকিৎসা

ব্রণ খুব জটিল হয়ে গেলে চিকিৎসা জরুরি। এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যদি এর আধিক্য বেশি হয় তাহলে অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়। আমরা তো আগেই বলেছি ব্রণ সাধারণত ২ ধরনের, হোয়াইটহেডস এবং ব্লাকহেডস। হোয়াইট হেডসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া যায়। যেগুলো পাকেনি অথচ শক্ত দানার মতো অর্থাৎ ব্লাকহেডসের জন্য অন্য ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর জন্য সাধারণ ওষুধ অর্থাৎ মলম জাতীও ওষুধ দেওয়া হয়। এটা তার পর এমনি সেরে যায়।

আজ আমরা জানলাম ব্রণ সম্পর্কে। ব্রণ কিভাবে হয়? কেন হয়? কাদের হয়? চিকিৎসা কি? ইত্যাদি। উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো আমরা নিয়মিত ফলো করলে মুখে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। ব্রণ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, এটা সকল প্রকার মানুষের হয়ে থাকে।

উপসংহার

আজ আমরা জানলাম ব্রণ সম্পর্কে। ব্রণ কিভাবে হয়? কেন হয়? কাদের হয়? চিকিৎসা কি? ইত্যাদি। উপরে বর্ণিত বিষয়গুলো আমরা নিয়মিত ফলো করলে মুখে ব্রণ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। ব্রণ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই, এটা সকল প্রকার মানুষের হয়ে থাকে।

স্বাস্থ্য বিষয়ে আরো জানতে হলে আমাদের সাইটে থাকা স্বাস্থ্য সম্পর্কিত অন্যান্য পোস্টগুলো পড়ুন। ধন্যবাদ।
Previous Post Next Post