গরুর মাংস খাওয়ার উপকারিতা, অপকারিতা এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি

মাংসের কথা বললেই প্রথমেই গরুর মাংসের কথা মনে চলে আসে তাইনা? গরুর মাংস প্রায় সকলেরই প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। গরুর মাংস যেমন স্বাদে সেরা তেমনই তার জনপ্রিয়তা ও বেশি। গরুর মাংস আমাদের শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি, ভিটামিন, মিনারেলের ঘাটতি পুরনে সহায়তা করে থাকে।

গরুর মাংস যেমন আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তেমনিভাবে অপকারীও বটে, এমনকি সাস্থ্য ঝুঁকি ও রয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেই গরুর মাংসের কি কি উপকার এবং কি কি অপকারীতা ও কি ধরনের সাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

গরুর মাংস যেমন আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তেমনিভাবে অপকারীও বটে, এমনকি স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রয়েছে। চলুন তাহলে জেনে নেই গরুর মাংসের কি কি উপকার এবং কি কি অপকারীতা ও কি ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি রয়েছে।

গরুর মাংসের উপকারিতাঃ

গ‌রুর মাংস আমারদের শরীরের যে সকল চাহিদা পূরণ করে থাকে তা নিম্নে উল্লেখ করা হলোঃ

১। আমিষের চাহিদা পূরণ করেঃ 

গরুর মাংস থেকে প্রথম শ্রেণির উচ্চমাত্রায় প্রোটিন পাওয়া যায়। গরুর মাংস থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায় তা আমাদের শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধিতে অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। গরুর মাংস থেকে যে উন্নতমানের প্রোটিন পাওয়া যায় তা আমাদের শরীরে সুস্থ মাংসপেশি গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে। তাছাড়া গরুর মাংসে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড রয়েছে, যা ত্বকের জন্য অনেক জরুরি।

২। জিংক এর অভাব পূরণ করেঃ

জিংক একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা জিংকের অভাবে ভুগে । তাই জিংকের অভাব দূরীকরণে কিশোর -কিশোরীদের গরুর মাংস খাওয়া উচিত। আমাদের সারা শরীরের কোষে জিঙ্ক পাওয়া যায়। শরীরের প্রতিরক্ষামূলক (ইমিউন) সিস্টেম সঠিকভাবে কাজ করার জন্য জিংক প্রয়োজন। এটি কোষ বিভাজন, কোষের বৃদ্ধি, ক্ষত নিরাময় এবং কার্বোহাইড্রেটের ভাঙ্গনে ভূমিকা পালন করে। গন্ধ ও স্বাদের জন্যও জিঙ্ক প্রয়োজন।

‌৩। ফসফরাসের চাহিদা পূরণ করেঃ

গরুর মাংসে রয়েছে উপকরী ফসফরাস। ফসফরাস আমাদের শরীরে হার ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।

৪‌। আয়রনের চাহিদা পূরণ করেঃ

গরুর মাংসে আয়রন রয়েছে। গরুর মাংসে যে আয়রন রয়েছে তা শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। আয়রনযুক্ত অনেক খাবার রয়েছে তবে সে তুলনায় গরুর মাংসে অনেক বেশি আয়রন পাওয়া যায়। আয়রন রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ এবং শরীরের সব কোষে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। গরুর মাংস শরীরে আয়রনের ঘটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

৫‌। ফ্যাট এর চাহিদা পূরণ করেঃ

মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম ফ্যাট বা চর্বি। আমাদের মস্তিষ্কের শতকরা ৬০ শতাংশই ফ্যাট দিয়ে তৈরি। ফ্যাটে এমন সব উপকরী উপাদান রয়েছে যা দেহের তাপশক্তি উৎপাদন, মস্তিষ্কের বিকাশ, বিভিন্ন হরমোনের উৎপাদন, চর্বিযুক্ত দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণ (এ, ডি, ই, কে ভিটামিন ) এবং ত্বক ও অন্যান্য অঙ্গের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।গরুর মাংসে অনেক ফ্যাটের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ফ্যাটের উপস্থিতির জন্য গরুর মাংস অনেক মজাদার হয়ে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংসে ফ্যাটের পরিমাণ ২.৬ গ্রাম।

৬‌। ভিটামিন এর চাহিদা পূরণ করেঃ 

গরুর মাংস থেকে আমরা অনেক রকম ভিটামিন পেয়ে থাকে। যা আমাদের শরীরের জন্য বিষেশ প্রয়োজনিয়। গরুর মাংস থেকে বিশেষ করে বি১২, বি৬ পেয়ে থাকি।বি৬ রিবোফ্ল্যাবিন ও বি১২-এর প্রয়োজনীয়তা অনেক। হার্ভার্ড স্কুল অব পাবলিক হেলথ এর মতে, দৈনিক ২.৪ মিলিগ্রাম বি১২ লাগে। তিন আউন্স গরুর মাংস বি১২-এর দৈনিক ৩৭% চাহিদা পূরণ করতে পারে। { আউন্স (ইংরেজি: Ounce) হল ওজন ও আয়তন পরিমাপের একক বিশেষ }। সংক্ষেপে '১ আউন্স' একক '1 Oz' লেখা হয়। কঠিন পদাৰ্থের ওজন ক্ষেত্ৰে ১ আউন্স= প্ৰায় ২৮.৩৫ গ্ৰাম।তিন আউন্স গরুর মাংস ফসফরাস, ভিটামিন বি১২, প্রোটিন, জিংক ও সেলেনিয়ামের খুবই ভালো উৎস। তিন আউন্স কচি গরুর মাংসে আয়রন, নায়াসিন, বি৬ ও রিবোফ্ল্যাভিন পাওয়া যায়।

গরুর মাংসের অপকারিতা

গরুর মাংস যেমনি আমাদের শরীরের জন্য উপকারী তেমনিভাবে অপকারীও বটে। যেমনঃ গরুর মাংসে কোলেস্টেরল বেশি থাকে, তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে কলেস্টেরলের পরিমান বেড়ে যাতে পারে। তাই গরুর মাংসের মাংসের কিছু অপকারীতা বা ক্ষতিকর দিক সমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো ঃ

  • ‌‌হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ‌উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে।
  • ‌কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • ‌কিডনি রোগ ঝুঁকি বাড়ায়।
  • ‌ক্যান্সার হতে পারে।

গরুর মাংস খেলে যে সকল স্বাস্থ্য ঝুঁকি হতে পারেঃ

গরুর মাংসে অনেক পুষ্টি থাকার পরেও অতিরিক্ত খেলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে। অতিরিক্ত গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কারণ গরুর মাংসে থাকে কোলেস্টেরল, ফ্যাট ও সোডিয়াম। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই যাদের রক্তে কোলেস্টেরল বেশি, তাঁদের অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। যাঁদের কিডনিতে সমস্যা রয়েছে তাঁদের অবশ্যই গরুর মাংস এড়িয়ে যেতে হবে। কারণ গরুর মাংসে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন পাওয়া যায়। গরুর মাংসে রয়েছে সোডিয়াম যা রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় । এজন্য যাদের রক্তচাপ রয়েছে তাদের অবশ্যই অবশ্যই গরুর মাংস এড়িয়ে চলতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যাঁরা অতিরিক্ত গরুর মাংস খান, তাঁদের ক্যানসার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পরিশেষে

গরুর মাংসে মানবদেহের জন্য অনেক প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান মানব দেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে যতটুকু প্রয়োজন তার বেশি হলে অনেক মারাত্মক সব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। যেমন : ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা ইত্যাদি রোগ দেখা দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণ গরুর মাংস খাওয়া উচিত,প্রয়োজনের অধিক খাওয়া উচিত না। সামনে আসন্ন কুরবানির ঈদ উপলক্ষে আমরা অনেকেই কুরবানি দিব। তাই মাংস খাওয়ার সময় অবস্যই পরিমান মত খেতে হবে।

আমাদের আর্টিকেলটি আপনাদের কাছে ভালো লাগলে অবশ্যই আপনাদের পরিবার আত্নীয়-স্বজনদের সাথে শেয়ার করবেন। 

Previous Post Next Post